
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডোদের নির্মূল করার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নজিরবিহীন গোয়েন্দা সমন্বয়ের তথ্য ফাঁস হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি নজরদারি করে একটি গোপন বৈঠকের খবর পায়। শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি সুরক্ষিত কমপ্লেক্সে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, যেখানে খামেনি নিজে উপস্থিত থাকবেন—এমন ‘নিখুঁত’ তথ্য ইসরায়েলকে সরবরাহ করে সিআইএ। এই তথ্যের ভিত্তিতেই পূর্বনির্ধারিত রাতের হামলার পরিকল্পনা বদলে শনিবার সকালে আক্রমণের চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করা হয়।
ভোর ৬টায় ইসরায়েলি বিমানঘাঁটি থেকে উড়ে আসা দূরপাল্লার ও সুনির্দিষ্ট নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধবিমানগুলো তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ওই কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। হামলায় খামেনির পাশাপাশি আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং আলী শামখানিসহ অন্তত ছয়জন শীর্ষ নীতি-নির্ধারক নিহত হন। যুদ্ধের আবহ থাকা সত্ত্বেও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন নিরাপত্তাহীনতা এবং সিআইএ-র গোয়েন্দা জাল তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দারা কয়েক মাস ধরে খামেনির অভ্যাস ও অবস্থানের বিস্তারিত ডেটাবেস তৈরি করেছিল। ১২ দিনের সংঘাতের পর সংগৃহীত তথ্যগুলো ব্যবহার করে তারা নিশ্চিত হয় যে শনিবারের ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন খামেনি।
প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও খামেনি ও পুরো সামরিক কমান্ডকে একসাথে পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি মিত্র বাহিনী। তাই বৈঠকের সময় অনুযায়ী সকাল ৯টা ৪০ মিনিটকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
হামলাটি চালানো হয় তেহরানের সেই কমপ্লেক্সে যেখানে প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় অবস্থিত। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি ভবনে থাকা সামরিক কর্মকর্তারা এবং পাশের ভবনে থাকা খামেনি সরাসরি আক্রান্ত হন।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যে আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি এবং উপ-গোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজির উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হয়েছিল। এই হামলায় ইরানের সামরিক চেইন অফ কমান্ডের প্রায় প্রতিটি স্তরের প্রধানরা নিহত হয়েছেন।
তেহরানের কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে এই হামলা প্রমাণ করেছে যে ইসরায়েলি প্রযুক্তির সাথে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় কতটা বিধ্বংসী হতে পারে। যুদ্ধের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ইরান তার শীর্ষ নেতাদের সুরক্ষায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।








